মেয়ে পটানোর পদ্ধতি। 
.
প্রথমেই আপনাকে বলে রাখি এই টিউটোরিয়াল শুধুমাত্র ফেসবুকে পরিচিত কোনো মেয়েকে পটাতেই কাজে আসবে। বাস্তব লাইফে পরিচিত কোনো মেয়েকে পটানোর জন্য কি করতে হবে সেটা আমরা পরবর্তীতে কোনো পোস্টের মাধ্যমে জানাবো, কিন্তু এই পদ্ধতিটি শুধুমাত্রই ফেসবুক থেকে পরিচিত মেয়ের জন্য। তো এখন যে মেয়েটি আপনার ক্রাশ তার সাথে আপনার মোট ৫ ধরনের পরিস্থিতি হতে পারে। 
.
এক, ফ্রেন্ডলিস্টে আছে, কিন্তু কখনো কথা হয়নি।
দুই, মাঝে মাঝে তার সাথে কথা হয়। তবে সেটা শুধুই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।
তিন. তার সাথে আপনি খুবই ক্লোজ৷ সারাদিন প্রচুর আড্ডা হয়। বলা চলে বেস্ট ফ্রেন্ড টাইপ।
চার. দুই একবার আপনি তাকে নক দিয়েছেন কিন্তু কথা তেমন আগাতে পারেনি৷ সে বেশি আগ্রহী না আপনার প্রতি।
পাঁচ. আপনি মেসেজ দিলেও রিপ্লাই দেয় না। সোজা ইংরেজিতে ইগনোর করে।
.
তো প্রথমেই আপনাকে ডিসাইড করতে হবে এই ৫ পরিস্থিতির মধ্যে আপনার সাথে আপনার ক্রাশের কোনটি চলছে? তার ওপর ভিত্তি করে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করবো। যদি এর মধ্যে একটাও না মিলে তবে সেটা কমেন্টবক্সে আমাদেরকে জানান। পরবর্তীতে সেবিষয়ে আমরা আপনাকে পরামর্শ দিব। 
.
তো ধরে নিলাম এই ৫ পরিস্থিতির যেকোনো একটিতে আপনি আর আপনার ক্রাশ আছেন। সেক্ষেত্রে পরবর্তী স্টেপ কি হবে?
.
তার আগে আরেকটা বিষয়। আমরা এই ৫ পরিস্থিতিকে মোটাদাগে দুই ভাগে বিভক্ত করতে পারি।
এক. অপরিচিত ও কথা হয় না।
দুই. পরিচিত ও কথা হয়।
.
প্রথম ভাগ অর্থ্যাৎ অপরিচিত ও কথা হয় না ভাগে যাবে, 'কখনো কথা হয়নি, দুইএকবার হইছে কিন্তু আগায়নি, আর আপনাকে ইগনোর করে, এই তিন পরিস্থিতি।'
.
আর দ্বিতীয় অর্থ্যাৎ পরিচিত ও কথা হয় ভাগে যাবে, 'বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, বেস্ট ফ্রেন্ড, এই দুইটি।'
.
তো আপনি যদি এই মুহুর্তে আপনার ক্রাশের সাথে পরিচিত ও কথা হয় ভাগে অবস্থান করে থাকেন তো শুকরিয়া। প্রথম স্টেপ আপনি আমার ডিরেকশন ছাড়াই অলরেডি পার করে এসেছেন। এই স্টেপটা তাই আপনার জন্য না। তাদের জন্য যারা অপরিচিত ও কথা হয় না ভাগে অবস্থান করছেন। আপনাদের যেটা করতে হবে সেটা হলো আপনার ক্রাশকে যেকোনো মূল্যে পরিচিত ও কথা হয় ভাগে নিয়ে যেতে হবে। সেটা, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দিয়েই হোক বা বেস্ট ফ্রেন্ড হয়েই হোক না কেন।
.
তো অপরিচিত কোনো মেয়েকে পরিচিত কোনো স্টেপে কিভাবে নিবেন, চলুন দেখি। 
.
আপনি জানেন, আপনার ক্রাশের ফ্রেন্ডলিস্টে আপনি ছাড়াও আরো হাজার ছেলে আছে। তাদের মধ্যে কেউ আপনার থেকে বেশি সুন্দর, কেউ বেশি ভালো জব করে, কেউ বেশি বড়লোক। তো তাদের সবাইকে বাদ দিয়ে ক্রাশ আপনার সাথে পরিচিত কেন হবে? তারজন্য আপনাকে এমন ইন্টারেস্টিং কিছু করতে হবে যেটা ক্রাশের চোখে আপনাকে আর দশটা ছেলে থেকে আলাদা ও স্পেশাল হিসাবে পরিচয় করিয়ে দেবে৷ 
.
এক্ষেত্রে অনেক পদ্ধতি আছে, কিন্তু আমি আপনাদের সবচাইতে বেশি যেটা কাজ করে সে সম্পর্কে বলব। এই পদ্ধতি পুরানো হলেও কাজের।
.
শুরুতেই এক রাতে হঠ্যাৎ মেসেজ দিন, 'সমস্যা কি আপনার? এগুলা কোন ধরনের কাজ? ছি!'
এই মেসেজ দেয়াতে আপনার ক্রাশ শতভাগ আপনাকে রিপ্লাই দিবে। হাই হ্যালো দিলে রিপ্লাই না দেয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
তো এবার সে জানতে চাইবে, 'আপনি এভাবে কেন বললেন? আমি কি এমন করেছি?'
তখন আপনি সোজাভাবে বলুন, 'আসলে হাই হ্যালো দিলে আপনি রিপ্লাই দিবেন না। তাই এভাবে বলছি জাস্ট রিপ্লাই পাওয়ার জন্য। এজন্য আমি অনেক স্যরি।'
এতে দুইটা কাজ হবে। আপনার ক্রাশ যেমন মজা পাবে, তেমনি আপনাকে অনেস্ট হিসাবেও ধরে নিবে।
তারপর হয়তো জিজ্ঞেস করবে, 'আমার সাথে কথা কেন বলতে চান?'
তখন বলুন, 'আমি একটা পেইজে দেখছি অমুক নামের (তার নাম) মেয়েরা অনেক মজা করে কথা বলতে পারে, তাই আপনার সাথে কথা বলতে আসছি। কারন আমার মন অনেক খারাপ।'
তখন সে জানতে চাইবে মন খারাপ কেন? তখন আপনি, 'ব্রেকাপ হইছে, গটের স্পয়লার পাইছেন, জিপারে জিনিস আটকে গেছে' ইত্যাদি যেকোনো একটা কারণ বলে জানতে চান, আপনার মন খারাপ হলে কি করেন?
.
এখানে আপনার প্রধান লক্ষ্য হবে মেয়েটাকে কথা বলতে দেয়া। কারণ মেয়ে যেমন হোক, সব মেয়ের একটা কমন স্বভাব থাকে তারা কথা বলতে পছন্দ করে। তো এভাবেই বিভিন্ন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে মেয়েটাকে বকবক করতে দিন এবং আগ্রহ নিয়ে তার কথা শুনুন ও প্রশ্ন করুন। এতে মেয়েটা পরবর্তীতেও আপনার সাথে কথা বলতে আগ্রহী হবে। এভাবে কয়েকদিন কথা বলুন ও আপনার বুদ্ধি আর ইচ্ছা অনুসারে তাকে ফ্রেন্ড, বেস্ট ফ্রেন্ড, যেকোনো কিছু বানিয়ে নিন।
.
তো এভাবেই আপনি চলে গেলেন দ্বিতীয় ভাগে। এখন আপনার তার সাথে নিয়মিতই কথা হচ্ছে। সুতরাং রিপ্লাই নিয়ে আর টেনশন না। এখন মেয়েটাকে আপনার প্রতি ইমপ্রেস করার পালা। তো জেনে রাখুন, একটা মেয়ে হুদাই আপনার প্রতি ইমপ্রেস হবে না। তারজন্য কোনো একটা 'কারণ' লাগবে। 
সেটা হতে পারে, আপনার সুন্দর চেহারা, অথবা আপনার অনেক টাকা, অথবা আপনি বিসিএস ক্যাডার, অথবা আপনি ভালো কোথাও পড়েন, অথবা আপনি ভালো গান গান, ছবি আকেন, ইত্যাদি কোনো একটা কারণ লাগবেই। সুন্দর মন বলে কিছু নাই, থাকলেও সেটা দেখা যায় না, দেখা গেলেও এই জিনিস আপনার নাই। যাদের সুন্দর মন থাকে তারা ফেসবুকে এই ফালতু টিউটোরিয়াল ফলো করে মেয়ে পটাতে যায় না। তারা বড় হয়ে আম্মুর কথামতো এরেঞ্জ ম্যারেজ করে। সুতরাং এই জিনিস বাদে অন্য যেকোনো কারণ লাগবে। তো এগুলা কিছু থাকলে তো ভালোই, না থাকলেও সমস্যা নাই। আপনাকে মিথ্যার আশ্রয় নিতে হবে। আপনাকে দেখাতে হবে আপনি বিরাট বড়লোক, বা বুয়েট মেডিকেলে পড়েন, বা ভালো ছবি আকেন কবিতা লেখেন, বা আপনার মেলা ক্ষমতা এর কিছু একটা। মনে রাখবেন, মিথ্যা দিয়ে হোক, একবার প্রেম হয়ে গেলে সত্য জানার পরও সে ঝগড়া করবে, কিন্তু ব্রেকাপ করবে না।
.
তো এই মিথ্যাটা সুন্দরভাবে বলতে হবে যাতে ধরা পড়ে না যান৷ তার জন্যও অনেক পদ্ধতি আছে। আমি একটা বলি।
যা করবেন, 'গুগল থেকে দামি একটা বিএমডব্লিউ বা অডি কারের ছবি ডাউনলোড করে মেয়েটার ইনবক্সে পাঠিয়ে বলুন, 'দেখ দোস্ত, এই গাড়িটা সকালে কিনলাম। কেমন হলো?'
সাথে সাথেই বলুন,  'স্যরি স্যরি, এটা আমার ফ্রেন্ড অমুককে পাঠাতে গিয়ে আপনার কাছে চলে গেছে। স্যরি'।
সে হয়তো তখন জানতে চাইবে, 'এই গাড়ি কি আপনি কিনছেন?'
তখন এমন ভাব করুন যে এটা খুবই কমন। বলুন, 'হ্যা এই আরকি। মাঝে মাঝে চেঞ্জ করি। বাদ দেন, আপনার কি খবর বলেন। খাওয়াদাওয়া শেষ?'
.
তো এভাবেই আপনি তাকে বলতে পারেন আপনি বুয়েট বা মেডিকেলে পড়েন, বা আপনার বিসিএস হইছে, বা অন্যের আকা স্কেচ অথবা অন্যের লেখা কবিতা নিজের নামে চালাতে পারেন।
.
যেটাই হোক, মেয়ে আপনার প্রতি ইমপ্রেস হয়ে গেছে নিশ্চিন্ত থাকুন। এবার সেই আসল কাজ। এক রাতে (বৃষ্টির রাত হলে ভালো হয়) আবেগ নিয়ে মেসেজ দিন, 'দেখ অমুক, আমি এতোদিন বিশ্বাস করতাম ফেসবুকে পরিচিত কোনো মেয়ের প্রেমে পড়া যায় না। কিন্তু তোমাকে দেখার পর আমার মনে হয়েছে প্রেম হওয়ার জন্য ফেসবুক না ইনস্টাগ্রাম সেটা ইম্পর্টেন্ট না, ইম্পর্টেন্ট হলো সঠিক মানুষটা খুজে পাওয়া। আর মাত্র সাতদিনেই আমি রিয়েলাইজ করেছি তুমিই আমার সঠিক মানুষ। তো আর ভান না করে সরাসরিই বলে দেই, আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি, আই লাভ ইউ অমুক। ডু ইউ লাভ মি?'
.
এবার মেয়েটা কি রিপ্লাই দিবে দেখুন। প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রে মেয়েটার রিপ্লাই যেটা আসে সেটা হলো, 'স্যরি ভাইয়া, আমার বয়ফ্রেন্ড আছে। তাছাড়া আমি আপনাকে ভাইয়ের দৃষ্টিতে দেখি। স্যরি, কিছু মনে করবেন না।'
.
খাইলেন তো ছ্যাকা? কি ভাবছিলেন? মেয়ে পটানো এতোই সোজা? এক ফাউল টিউটোরিয়াল ফলো করে মেয়ে পটাই ফেলবেন? এইটা বিশ্বাস করছেন কজ আপনি গাধা। এজন্যই মেয়ে পটাতে পারেন না। আর আপনার কি মনে হয় এতো সুন্দর মেয়ে এখনো সিঙ্গেল? সব ছেলে তো আপনার মতো গাধা না। ভাইরেভাই, এই টিউটোরিয়াল আমি লিখছি আমি নিজেই সিঙ্গেল। এগারোশ মেয়ে পটানো সব বাকওয়াজ। আমাদের জীবন খালি ছ্যাকাময়। এগারোশ মেয়ে পটাইতে পারিনাই ঠিক, কিন্তু ছ্যাকা খাইছি কয়েক হাজারের বেশি। সুতরাং হুদাই ছ্যাকা না খাইতে চাইলে মেয়ে পটানোর ধান্দা বাদ দিয়ে ঠিকমতো লেখাপড়া করেন। একবার কোনোভাবে বিসিএসে টিকে যাইতে পারলে ক্রাশের বয়ফ্রেন্ড থাকুক না থাকুক এগুলা বিষয় না। তারে আপনিই পাবেন। এখন ফেসবুক লগ আউট কইরা পড়তে যান। উনি আসছে টিউটোরিয়াল দেখে মেয়ে পটাইতে, যত্তসব!

Comments

Popular posts from this blog