আপনার বাবুর যত্নে করণীয়: জেনে নিন উপায়ঃ 
.
আমরা প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্নজনের থেকে মেসেজ পাই যে তার বাবু খেতে চায় না, ঘুমাতে দেরি করে, বাবুর খুব রাগ, বাবু অসুস্থ, কি করবো? আমরা তাদের পরামর্শ দিয়েছি, শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখান, খেলনা কিনে দিন, পাতলা খিচুড়ি রান্না করে চামচ দিয়ে খাওয়ান, ইত্যাদি। কিন্তু কোনো বিশেষ কারণে এইসব পরামর্শ তাদের পছন্দ হয়নি৷ অনেকে প্রচন্ড রেগেও গেছে।
একটা ঘটনা শেয়ার করি। 
এক মেয়ে আমাদের মেসেজ দিয়েছিলো, 'আমার বাবু রাতে ঘুমাতে দেরি করে। আমি ঘুমালেও ও জেগে থাকে৷ কি করব?'
আমরা রিপ্লাই দিয়েছিলাম, 'বাবুকে কোলে নিয়ে বুকের দুধ দিন, আর আস্তে আস্তে পিঠে হাত বোলান।'
সেই মেয়ে রেগে গিয়ে আমাদেরকে, 'কুত্তার বাচ্চা, সাইকো, অশ্লীল, ঘরে মা বোন নেই? ইত্যাদি গালি দেয়। আরো বলে, আমি বিয়ের আগে এসব পছন্দ করিনা। এমনকি আমার বাবুকে চুমুও খেতে দিইনি৷ শুধু হাত ধরা এলাউ করেছি।'
এগুলা বলে ব্লক করে দেয়।
.
তখন কিঞ্চিৎ খটকা লাগে৷ কুছ তো গড়বড় হ্যায়। বাংলাদেশে বিয়ের আগেই বাবু? তার আবার বুকের দুধ খাওয়া এলাউ না? শুধু হাত ধরা? এ কেমন বাবু? কি এমন রহস্য লুকিয়ে আছে এর পেছনে?
.
তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে তাদেরকে থাইল্যান্ড ট্যুরে পাঠিয়ে দিয়ে নিজেই শুরু করি রহস্য উদঘাটনের কাজ। কিছুদিনের মধ্যেই জানতে পারি, আসল কাহিনী। এ বাবু সে বাবু নয়। এই বাবুকে ঠিক টাইমে বিয়ে দিয়ে দিলে এর নিজেরই এখন একটা দুটো বাবু থাকতো। এই বাবু জামাকাপড় না পরে থাকলে সেটা আঠারো প্লাস কন্টেন্ট। এই বাবু বুকের দুধ খেলে বা খাওয়ালে সেই গল্প হয়ে যায় বাংলা চটি। এই বাবু মূলত অন্য এক বাবুর প্রেমিক অথবা প্রেমিকা।
.
আমরা যেহেতু বাবুদের সমস্যা নিয়ে কাজ করি সেহেতু এডাল্ট বাবুদের সমস্যাগুলোর সমাধানও আমাদের বের করা উচিত। আর তাই বহু গবেষণা, বহু রিসার্চ, তিনশো লুতুপুতু টাইপ প্রেমিক প্রেমিকাকে দুই বছর অবজার্ভ করার পর এবং নিজেই দশের অধিক প্রেমে অংশগ্রহণ করে আমরা এই বাবুদের সমস্যাগুলোর সমাধান বের করেছি। আপনার যদি এমন কোনো বাবু থাকে তবে জেনে নিন ঝটপট।
.
* বাবু খেতে না চাইলেঃ এক্ষেত্রে একটা ঔষধই অব্যর্থ। তবে সেটা প্রয়োগের পদ্ধতি আলাদা আলাদা৷ শুরুতে নরম গলায় বলুন, বাবু তুমি না খেলে আমিও খাবোনা।'
এতেই বেশিরভাগ সময় কাজ হয়। তবে এতে কাজ না হলে ঔষধ এক ডোজ বাড়াতে হবে৷ ঢং করে বলুন, 'তুমি না খেলে কি আমি খেতে পারি বলো বাবু? আমার বাবুটা খায়নি আর আমার গলা দিয়ে ভাত নামবে? তুমি না খেলে আমি আর কোনোদিন খাবোই না বলে দিলাম।'
.
মনে রাখবেন, আপনার বাবুকে খাওয়ানোর এই প্রক্রিয়া অনেকসময় বেশ দীর্ঘ হতে পারে। লাগতে পারে অনেক পরিশ্রম ও এনার্জি। সুতরাং আগে নিজে পেট পুরে খেয়ে তারপর বাবুকে রাজি করানোর মিশনে নামুন। 
.
এবারে হালকা রাগ করে বলুন, 'হালা কুত্তার বাবু, তুই না খেলে কিন্তু আমিও খাবোনা বাল।'
এতেও যদি কাজ না হয় তবে হালকা এডাল্ট ডোজ। রোমান্টিক গলায় বলুন, 'এই বাবুউউই, আসোনা, খাই! 
এতেই আশাকরি কাজ হয়ে যাবে৷ যদি তাও না হয় তবে সর্বশেষ ঔষধ হলো, 'বাবু আসো, তুমি আমারটা খাও, আমি তোমারটা খাই।'
ইয়ে মানে, খাবার আরকি!
তবে চেষ্টা করবেন এই পর্যায়ে যেন যাওয়া না লাগে৷ তাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে। আপনার বাবুটা একটু দুষ্টু প্রকৃতির (পড়ুন লুচ্চা) হলে আপনার কি কি খাবে কে জানে!
.
* বাবু রাতে ঠিকমত না ঘুমালেঃ এই পর্যায়ে আমরা সবচাইতে বেশি যে অভিযোগ পাই সেটা হলো, আমি ঘুমানোর পরও আমার বাবু জেগে থাকে৷ অন্যদের সাথে চ্যাট করে, ফোনে কথা বলে। সকালে জিজ্ঞেস করলে বলে, আরে আর বইলো না, ডাটা কানেকশন অন করে ঘুমাই গেছিলাম তাই অনলাইনে দেখায়, অথবা আমার মামা আমেরিকা থাকে তো, উনি কল দিছিলেন। আমাদের এখানে রাত হলে জানোই তো ওদের ওখানে দিন।'
এই সমস্যা সমাধানের জন্য ৮০ শতাংশু বাবুওয়ালা বাবুওয়ালীরা একমাত্র ভরসা, 'গুড নাইট কিসি।'
ফোনের ওপাশ থেকে একটা গুড নাইট কিসি মুহুর্তের মধ্যে আপনার বাবুর দুইচোখে এনে দেবে রাজ্যের ঘুম। তবে কিছু কিছু বাবুদের গুডনাইট কিসির সাথে হালকা আদরও লাগে৷ 
'আসো বাবু আদর করে দেই৷ আমার কাছে আসো। কই আসোওঅঅঅঅঅঅঅঅ (দুই আলিফ টান), আচ্ছা বাবু ঘুমাওওওওওওওওওওওওও (তিন আলিফ টান) আর গুড নাইট কিসি। এই তিনটা জিনিস সঠিকভাবে প্রয়োগ করলেই আপনার বাবু নিশ্চিতভাবে ঘুমিয়ে যাবে৷ 
.
এখন আপনি চাইলে জেগে থেকে ইনবক্সে আরেকটা বাবু নেয়ার প্লান করতেই পারেন!😉
.
* বাবু অসুস্থ হলেঃ এন্টিবায়েটিকের সঠিক প্রয়োগ যেমন সাধারণ মানুষের যেকোনো অসুখ সারিয়ে দেয় তেমনিভাবে বাবুদের অসুখে সবচাইতে কার্যকর এন্টিবায়েটিকটার নাম, উম্মাহ। এই এন্টিবায়েটিক সমসময় ফোনের ওপাশ থেকে ব্যবহার করতে হবে৷ অন্যথায় এর কার্যকারিতা ৭০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়৷ ১৯৪১ সালে সর্বপ্রথম আমেরিকান প্রেমিকা স্যাডিয়া ট্যাবসুম ও ন্যাশরাট জেহান নামের দুই বোন তাদের বয়ফ্রেন্ড বাবুরা অসুস্থ হলে এই ঔষধ প্রয়োগ করে সফল হন। এই এন্টিবায়োটিকটির সাত রকম ডোজ ব্যবহৃত হয়। যার সর্বনিম্ন ডোজ হলো, উম্মাহ আর সর্বোচ্চ ডোজ, "উমমমমমমমমমমমমমমমমমমম্মম্মম্মম্মম্মম্মম্মম্মম্মায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়াহহহহহহহহহহহহহহহ"।
.
রোগের প্রকোপের ওপর নির্ভর করে অভিজ্ঞ প্রেমিক প্রেমিকাদের পরামর্শ অনুযায়ী শুধুমাত্র এই ঔষধ ব্যবহার করতে হবে ডোজ বাড়াতে কমাতে হবে।
এই এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের নিয়ম খুব সহজ। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, 'ধরুন আপনার বাবুর ডায়রিয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বাবুকে কল দিয়ে বলুন, 'আহারে আমার বাবুটার পাতলা পায়খানা হইছে। আসো বাবু উম্মাহ দিয়ে দেই। উমমমাহহ!'
.
উম্মাহ দেয়ার সর্বোচ্চ তিন থেকে সাত মিনিটের মধ্যেই অসুখ কমতে শুরু করবে৷ এক থেকে দেড় ঘন্টার মধ্যে আশা করা যায় রোগ নিরাময় হয়ে যাবে। 
.
তবে সতর্ক থাকবেন এই উম্মাহ এন্টিবায়েটিক রোগ না হলে বা অল্প একটু গা গরম, পায়ে ব্যাথা এরকম কিছু হলেই যদি বারবার ব্যবহার করা হয় তবে একসময় আর কাজে দেবে না৷ এটা শুধুমাত্র সিরিয়াস রোগের ক্ষেত্রেই ইউজ করুন। 

* বাবু যা দেখে তাই নেয়ার আবদার করে বা যা পায় তাই মুখে দেয়ঃ এই সমস্যাটাও আজকাল বেশ দেখা যাচ্ছে। আগেরকালের বাবুদের মধ্যে প্রায় ছিলোই না। আপনার বাবু রাস্তাঘাটে সুন্দরী মেয়ে বা হ্যান্ডসাম ছেলে দেখলেই চেয়ে থাকে? আপনি বাদে ভালো কাউকে দেখলেই গোপনে পাইতে আর খাইতে চায়? এরকম কিছু দেখলে বুঝবেন আপনার বাবু অন্যদের তুলনায় একটু চঞ্চল (পড়ুন খা** বা চু** *ই) টাইপের। আপনার বাবুর মধ্যে এরকম সমস্যা হলে সারানো বেশ কঠিন। তাকে ব্রেকাপের হুমকি দিয়ে দেখতে পারেন। সাথে বলুন, 'কুত্তা আমার সাথে কোনোদিন কথা বলবি না। বাই।' এতে সাময়িক কাজ হবে আশাকরি। 
তবে এই সমস্যা সমাধানে ঔষধ প্রয়োগের চাইতে আপনার সতর্কতা বেশি কাজে দেবে।
এক্ষেত্রে সবসময় আপনার বাবুকে চোখে চোখে রাখার জন্য তার ফেসবুকের পাসওয়ার্ড নিয়ে রাখুন৷ বাবুর ফোন নিয়মিত চেক করুন। বিশেষ করে যাদেরকে আপু/ ভাই ডাকে তাদের বেলায় সাবধান। সকল ভার্চুয়াল আপু ভাইদের সাথে কনভার্সেশন পড়ুন। জিপি অফারের মেসেজ খুলে দেখুন তার মধ্যে রুম ডেটের অফার আসছে কিনা। আম্মু ফোন দিছে বললে, লাউডে দিতে বলুন। আর সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, খোজ নিন বাবুর কোনো বিপরীত লিঙ্গের জাস্টফ্রেন্ড আছে কিনা। যদি থাকে তবে বুঝবেন আপনার বাবু নষ্ট হয়ে গেছে। তার প্রতি আর আশা না করাই উচিত। দ্রুত ব্রেকাপ করে ফেলে নতুন কোনো চরিত্রবান বাবু জুটিয়ে নিন।
.
.
পরিশেষে, আপনি যদি একজন বাবু বা বাবুনিওয়ালা হয়ে থাকেন তাহলে তাকে আনন্দময় ও হেলদি রাখতে উপরের পরামর্শগুলো ফলো করুন। আশা করি আপনার বাবু ভালো থাকবে, সুস্থ থাকবে৷ পরামর্শগুলো আপনার বাবুওয়ালা বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে বাংলাদেশের সকল এডাল্ট বাবুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করুন। ধন্যবাদ।

Comments

Popular posts from this blog