Posts

Showing posts from 2019
আমি তখন সবেমাত্র অনার্স ভর্তি হয়েছি। ফার্স্ট ইয়ার। হাতখরচ চালানোর জন্য টিউশনি শুরু করলাম। ক্লাস টেনের একটা মেয়েকে ইংরেজি  পড়াতাম। বড়লোকের মেয়ে। ওর বাবার দশটা মত ট্রাক আছে। বাজারে রড সিমেন্টের দুইটা দোকান। টাইলসের দোকান একটা। মেয়ে তার বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। আমি শুরুতে ভাবতাম একটা মেয়ে কেন? দশ টাকার চিপসের মধ্যের স্ক্রাচ কার্ডেও লেখা থাকে, আবার চেষ্টা করুন। আর এই দম্পতি এক বাচ্চা নিয়েই সন্তষ্ট? আরেকবার চেষ্টা করে দেখলো না? এতো টাকাপয়সা খাবে কে। আঙ্কেলের বিশাল ধৈর্য আছে মাশাল্লাহ। আন্টিকে দেখলে আমারই মাথা ঠিক থাকে না। যেরকম সুন্দরী, সেইরকম ফিগার। আমি এই মহিলার বর হলে আমার ছেলেমেয়েরা বাসার ছাদেই দুই দলে ভাগ হয়ে ফুটবল খেলতে পারতো। বাইরে থেকে কোনো ফ্রেন্ড ডেকে আনার দরকার পড়তো না। :3 . যাই হোক, আমাদের আজকের কাহিনী ঐ মহিলাকে নিয়ে না৷ উনার একমাত্র মেয়ে অর্থ্যাৎ আমার ছাত্রীকে নিয়ে৷ মেয়ের নাম অরনী। মায়ের থেকেও তিনগুন বেশি সুন্দরী। কতটা সুন্দরী উদাহরণ দেই৷ টিউশন মাস্টাররা লুচ্চা হলে নাকি ছাত্রীর বুকের দিকে তাকায়। কিন্তু আমি যথেষ্ট লুচ্চা হয়েও কখনো অরনীর বুকের দিকে তাকাইনি। ওর চেহারা এতো ...
বিয়ের সপ্তাহখানেক বাদেই আনিস বুঝতে পারলো তার বউ বিথী ঠিক নর্মাল না। অবশ্য এটা সে ধারণা করেছিলো বিয়ের পরদিনই। ভালোবাসাবাসির আগে বিথী যখন বললো কনডম ইউজ করার দরকার নাই কোনো, আনিস অবাক হয়েছিলো।  - তোমার কি সেফ পিরিয়ড চলতেছে? - না। - তাহলে? পিল খাবা? পিল খাওয়া ক্ষতিকর স্বাস্থ্যের জন্য। - পিলও খাবো না। - তাহলে? প্রটেকশন না ইউজ করলে কনসিভ করে ফেলবা তো। এতো তাড়াতাড়ি বাচ্চা নেয়া ঠিক হবে না। বিথী কিছুটা বিরক্তি নিয়ে বলেছিলো, 'আমি বলতেছি তো, কোনো সমস্যা হবে না। এতো দ্রুত বাচ্চা আমিও নিবো না। তুমি কনডম রেখে দাও৷ আর কখনো এটা কিনে তোমার টাকা নষ্ট করা লাগবে না।' . তখন বিস্তারিত আলোচনা করার মত ধৈর্য বা পরিস্থিতি না থাকায় আনিস আর কথা বাড়ালো না। তবে খটকা একটা থাকলোই। . ছয় সাতদিন পর একদিন সন্ধ্যা থেকে প্রচন্ড বৃষ্টি শুরু হলো। বাসায় বাজার ছিলো না কোনো। আনিস বিথীকে বললো খিচুড়ি রান্না করো। সাথে ডিম ভাজি। দোতলার ভাবীর বাসা থেকে ডাল আর ডিম ধার করে আনো। বিথী জানালো, ঘরে ডিম আছে। শুধু ডাউল আনলেই হবে।  . ডিম খিচুড়ি পেট ভরে খাওয়ার পর বৃষ্টিভেজা রোমান্টিক রাতে আনিসের ইচ্ছা হলো প্রেম করার। কার...
লাইফে প্রথমবারের মতো 'ইন আ রিলেশনশিপ' স্ট্যাটাস দিয়ে ছেলেটা খুশিতে দুই রাকআত শুকরিয়া নামাজ পড়ে ফেললো। যাক, শেষপর্যন্ত ভাগ্যের শিকে ছিড়েছে। এখন আর সবার মতই ওরও একটা সুইট, কিউট, স্মার্ট আর সুন্দরী গার্লফ্রেন্ড আছে। যাকে মনের সব আবেগ নিয়ে বলা যায় ভালোবাসার সমস্ত কথা। সে মেয়েটাকে ফোন দিলো,  "হ্যালো বাবু কি করো?" "এইতো জান শুয়ে আছি, তুমি?" "আমিও। একটা কাজ করতে পারবা?" "কি কাজ বলো।" "কাল ভোর সাতটায় আমার খুব ইম্পর্টেন্ট একটা ক্লাস আছে, তুমি ফোন দিয়ে ঘুম থেকে তুলে দিতে পারবা?" "অবশ্যই পারবো। তুমি নিশ্চিন্তে ঘুমাও।" "ওকে বাবু, লাভ ইউ। উমমমাহ।" "লাভ ইউ টু। উমমমাহ।" . আহা! জীবনটা এতো সুখের কেন! ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে গেলো ছেলেটা। চোখে খুব সুন্দর একটা ভবিষ্যতের স্বপ্ন। যে ভবিষ্যৎ ভালোবাসা আর আনন্দে পরিপূর্ণ। . পরদিন সকাল এগারোটায় ঘুম ভাঙলো ছেলেটার। ফোনটা হাতে নিয়ে চেক করলো। নাহ কোনো মিসকল উঠে নেই। মেজাজ খারাপ হলো খুব। ফেবুতে লগইন করে একটা মেসেজ পেলো। মেয়েটা লিখেছে, "স্যরি বাবু আমি বলতে ভুলে গেছিলাম...
মহুয়ার বাবা ইলিয়াস চৌধুরী প্রচণ্ড রাগী মানুষ। এককালে জমিদার ছিলেন, এখন জমিদারি না থাকলেও সেই রাগ আর ব্যক্তিত্ব ধরে রেখেছেন। তার ভয়ে পুরো মহল্লা কাপে থর থর করে। সুতরাং বহু ইচ্ছা থাকা সত্বেও ইন্টার পড়ুয়া মহুয়াকে থাকতে হচ্ছে সিঙ্গেল। এই বয়সটা প্রেম করার জন্য একদম পারফেক্ট। সিনেমা আর সিরিয়াল দেখে দেখে রাতদিন কল্পনায় লাল নিল স্বপ্ন ভাসে মহুয়ার চোখে। কিন্তু ঐ যে রাগী বাবা। এলাকার কোনো ছেলে কখনো সাহস পায় না মহুয়াকে প্রপোজ করার। প্রপোজ তো বহু দূরে, ওর দিকে তাকাতেই সবাই ভয় পায়। ভয় পায় মহুয়া নিজেও। বাবা কোনোভাবে খবর পেলে ওকে টুকরো টুকরো করে আফ্রিকান মাগুর দিয়ে খাইয়ে দেবে। নিজের সম্মানের চাইতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইলিয়াস চৌধুরীর কাছে নাই। . তবে শেষপর্যন্ত কষ্ট দূর হলো মহুয়ার। ইন্টার পরীক্ষার পর কিভাবে কিভাবে যেন ও চাঞ্চ পেয়ে গেলো স্বপ্নের ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে। আর কে পায়! রোকেয়া হলে স্বাধীন জীবনের শুরু। যেখানে নেই বাবার শাষন বা ভয়। এইবার পূরণ হবে স্বপ্ন। শুধু এখন কারো প্রপোজের অপেক্ষা, যাকে শুধুমাত্র ছেলে হলেই হবে, আর কিচ্ছু লাগবে না। তাছাড়া সুন্দরী মহুয়া কম না। জমিদার বংশের মেয়ে বলে কথা। . ক্যাম্...
শাকিলের গার্লফ্রেন্ড নাবিলা মেসেজ দিয়েছে, 'আই লাভ ইউ।' কিন্তু সমস্যা সেটা না। সমস্যা হলো মেসেজ সে শাকিলকে না, দিছে আমাকে। আর শাকিল আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। সেই স্কুল লাইফ থেকে আমাদের বন্ধুত্ব। শাকিল কখনো আমাকে না দিয়ে একটাকার একটা চকলেটও খায়নি। ভুল বললাম। নাবিলাকে সে খাচ্ছে আমাকে ছাড়াই। কখনো অফার করেনাই যে ঠিকাছে নে, তুই অর্ধেক আমি অর্ধেক। অথচ নাবিলা চকলেট বার্গার পিজা কোক সহ দুনিয়ার সবধরনের ফার্স্টফুড থেকে বেশি সুস্বাদু। চিকেন ফ্রাই থেকে বেশি স্পাইসি, কফি থেকে বেশি হট। এতো বেশি হট যে রাতে গ্যাস ফুরাই গেলে আমরা ওর ছবি দেখায়ে গরম করে খেয়ে ফেলি। খাবার না, নিজেকে গরম করি। তারপর ঠান্ডা খাবার খাইতে খুব বেশি খারাপ লাগে না। তো সেই নাবিলা আমাকে আই লাভ ইউ বলেছে। আমি জাস্ট নিজের কান চোখ মুখ নাক হাত পা সহ শরীরের কোনো জায়গাকেই জিনিসটা বিশ্বাস করাতে পারতেছি না। ভুল বললাম, শরীরের বিশেষ একটা জায়গা ঠিকই বিশ্বাস করেছে, কিন্তু ভদ্রসমাজে তার বিশ্বাসের কোনো দাম নেই। . যাই হোক, এখন আমার সামনে অপশন দুইটা। প্রথমজন আমার বেস্ট ফ্রেন্ড শাকিল। দ্বিতীয়জন খুব বেশি সুন্দরি একটা মেয়ে নাবিলা, যে আমাকে প্রপোজ কর...
রাফি খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠেই পড়তে বসে গেছে। সেটা দেখে রাফির আম্মু সালেহা খানম প্রচন্ড রেগে গেলেন। "কি ব্যাপার রাফি, তোমাকে না বলেছি সকাল নয়টার আগে ঘুম থেকে উঠবা না। আর হাতে ওটা কি? তোমার তো সাহস কম না তুমি সাতসকালে উঠে বই নিয়ে বসে গেছো।" রাফি আমতা আমতা করে বললো, 'ইয়ে আম্মু কেমিস্ট্রির জৈব যৌগটা একটু দেখে নিচ্ছি।' "আবার মুখে মুখে কথা বলো। রাখো বইটা। রাখো বলছি।" কি আর করা, রাফি মন খারাপ করে বইটা রেখে দিলো। "এইতো গুড বয়, সালেহা খানম একটু স্বাভাবিক হলেন। এবার লক্ষী ছেলের মত হাতমুখ ধুয়ে এসে ফেসবুকে লগইন করো। সকাল আটটা অব্দি টানা ফেসবুক চালাবা। আমি তোমার জন্য নাস্তা বানাতে যাচ্ছি।" . আম্মু চলে যেতেই রাফি ল্যাপটপে ফেসবুক অন করে ল্যাপটপের মধ্যে ফিজিক্স বইটা রেখে পড়তে লাগলো। বারবার আড়চোখে দরজার দিকে তাকাচ্ছে যেন কেউ হুট করে চলে না আসে। এমন সময় রুমে রাফির বাবা এসে ঢুকলেন। রাফি সেটা দেখে ঝটপট বইটা বালিশের নিচে লুকিয়ে ফেলে মনোযোগ দিয়ে ফেসবুক চালাতে লাগলো। বাবা এসে পাশে বসলেন। বললেন, 'কি ব্যাপার রাফি, তোমার আম্মু এগুলা কি বলতেছে? তুমি নাকি সুযোগ পেলে...
এলাকার সবচাইতে সুন্দরী মেয়ে লিপি। খুব স্বাভাবিকভাবেই সব ছেলে তাকে পেতে চায়। কিন্তু দীর্ঘ আটাশ বছরেও লিপি কাউকে পাত্তা দেয় নাই। পাত্তা দেয়না বললে ভুল হবে, একজনকে দেয়। সোহান। এলাকার সবচেয়ে বড়লোকের একমাত্র ছেলে। কিন্তু তারপরও লিপির কাছে পাত্তাটা পায় ফ্রেন্ড হিসাবেই। লিপিকে নিজের করে পাওয়ার খুব ইচ্ছা সোহানের, কিন্তু রাজি হয়না লিপি। তবে অনেকে মজা করে বলে তারা নাকি একে অন্যের জাস্টফ্রেন্ড। ঘটনা সত্যি কিনা কেউ জানেনা। জিজ্ঞেস করলে লিপি শুধু হাসে৷ সোহান এই হাসিতে ভরসা পায়। নিশ্চিত হয়, লিপি বিয়ে করলে ওকেই করবে৷ লিপির পাত্র হিসাবে ওকে হারিয়ে দেয়ার সাধ্য যে এলাকার কারো নেই। . এদিকে লিপির বয়স তো কম হচ্ছেনা। সত্যি বলতে বাংলাদেশের তুলনায় বিয়ের বয়স ইতিমধ্যে পার হয়ে গেছে। তারপরও আঠাশ বছর বয়সেও লিপির যা চেহারা আর ফিগার। বহু আঠারো বছরের তরুনীর কাছে সেটা স্বপ্ন।  . এলাকার আরেকটা ছেলে লিপিকে পাওয়ার স্বপ্ন দেখে। গরীব ঘরের সেই ছেলেটার নাম নুর আলম। বাবার ছোট্ট একটা দোকান আছে। কলেজ থেকে বাসায় ফিরে বিকালে দোকানে বসে নুর। লিপি এইসময় মাঝে মাঝে ফ্লেক্সিলোড দিতে আসে। লিপির চাহনী, হাসি আর হাত নেড়ে নেড়ে কথা...
সাজিয়া সকাল এগারোটায় কোনো কারন ছাড়াই একবার বমি করেছে। সাজিয়ার আম্মু আগের কালের মহিলা হলে হয়তো উল্টাপাল্টা কিছু সন্দেহ করে বসতেন, কিন্তু রেহেনা খানম আধুনিক আম্মু। তিনি চোখমুখ শক্ত করে ঘোষণা করলেন সারাদিন ফেসবুক চালালে বমি তো আসবেই। সাজিয়া রেগে গিয়ে বললো, 'সবকিছুতেই কেন ফেসবুকের দোষ হবে সবসময়, হুম? এমনও তো হতে পারে যে আমি প্রেগনেন্ট। হতে পারে না?' সাজিয়ার আম্মু তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলেন। 'হুহ! তোমার ক্ষমতা আমার খুব ভালো করে জানা আছে। ফেসবুকে ইন এ রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস আর ইনবক্সে দুই একটা উম্মাহ দিলে কেউ প্রেগনেন্ট হয়ে যায় না। প্রেগনেন্ট হওয়ার জন্য কিছু করা লাগে। শুয়ে বসে ফোন টিপলে চলে না। আর তুমি লাস্ট কবে কোনো একটা কাজ করেছ বলবা আমাকে? একগ্লাস পানিও তো ঢেলে খাও না!' সাজিয়া যারপরনাই হতাশা অনুভব করলো। আম্মু এখন আছে উপদেশ দেয়ার মুডে। দেড় দুই ঘন্টার আগে থামানো পসিবল হবে না মেবি। রেহেনা বেগম টানা কথা বলার প্রস্তুতি হিসাবে একটা চকলেট গালে দিলেন। এতে গলা শুকিয়ে আসে না সহজে। 'ইউ নো সাজিয়া? কোনো ধারণা আছে, তোমার এই বয়সে আমি কতকিছু করেছি? কারো সাহায্য ছাড়াই নিজে নিজে চা বানাত...
সাদিয়া আমার দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় থেমে থেমে বললো, 'আই এম প্রেগন্যান্ট।' আমি হাসলাম, 'কংগ্রাচুলেশনস। এখন বাসায় গিয়ে মাদার্স হরলিকস খাও।' সাদিয়া রেগে গেলো। বললো, 'তোমার কি ব্যাপারটা মজার মনে হচ্ছে?' 'অবশ্যই, একটা সুসংবাদ। এখানে মজা না পাওয়ার কি আছে?' 'ও আচ্ছাহ, সাদিয়া চোখ গরম করলো। এখানে তোমার কোনো দোষ নাই? আমি যে প্রেগন্যান্ট এর পেছনের কারন তো তুমি।' আমার পরপর দুইটা হার্টবিট মিস করলো। 'হোয়াট? এই বাচ্চা তোমার বরের না? কি বলতেছ এইসব? আমি লাইফে তোমার হাতটাও ধরিনি কখনো।' . সাদিয়া মুখ বাকিয়ে বললো, হ্যা বাচ্চা আমার বরের৷ তারপরও দোষ তোমার। - কিভাবে? - ঐদিন ছিলো ঝড়ের রাত। আর এলাকার একমাত্র ফার্মেসীর দোকান তোমার। সেটা বন্ধ ছিলো।  - ওহ শুরুতে এমনভাবে বললা, যে আমি ভয়ই পেয়ে গেছিলাম।  সাদিয়া হাসলো, 😋
বিয়ের পর শিমু এতো পাল্টে যাবে এটা আমি ভাবতেও পারিনি। মাত্র একমাস আগেও ও ছিলো একরকম, আর বেনারসি শাড়ি পড়ে তিনবার কবুল বলার সাথে সাথে ও হয়ে গেছে আলাদা মানুষ। প্রেমিকা আর বউ কখনো এক থাকে না কেন? কে জানে!  . আগে আমাদের সারাদিন ফোনে কথা হতো। সারারাত জেগে কত গল্পই না আমরা করতাম। হাজার দুনিয়ার হাজার টপিক, কথা যেন শেষই হতো না। কিন্তু এখন সেসবের কিছুই হয় না৷ প্রেম চলাকালীন সপ্তায় অন্তত তিনদিন রেস্টুরেন্টে খাওয়া হতো। আমি আর ও বিল ভাগ করে দিতাম অর্ধেক অর্ধেক। এখন রেস্টুরেন্টে যদিও ভুল ভবিষ্যৎ দুয়েকদিন খাওয়া হয়, তাও বিল পুরোটাই আমার দেয়া লাগে। সেই নারীবাদী শিমু বিয়ের পর আর নারী পুরুষ সম অধিকারে বিশ্বাস করে না। সে এখন নারীদের একার সমস্ত অধিকারে বিশ্বাস করে। তার বর্তমান আইডিওলজিতে পুরুষের কোনো অধিকার নেই।  . আগে সপ্তায় একদিন রান্না করে আমার মেসে এনে খাইয়ে দিতো। এখন আমার জন্য রান্না করার সময় ই নাই তার। সে এখন রান্না করে তার বরের জন্য। সে রাতে গল্প করে তার বরের সাথে। রেস্টুরেন্টে খেতেও যায় তার বরের সাথে। খুব সম্ভবত লিটনের ফ্লাটেও যায় বরের সাথেই। আমার সাথে এখন কেন যাবে? আমি তো আর শিমুর কেউ ...
আমার হাতে একটা ভালো পাত্র এসেছে, বিসিএস ক্যাডার৷ মাত্রই চাকরি পেয়ে বিয়ের বাজারে নেমেছে দামি থলে হাতে। ভালো ফ্যামিলির মেয়ে খুজছে, সাথে শিক্ষিতা ও সুন্দরী। পাত্রের খোজ এনেছে আমার আম্মু। আম্মুর বান্ধবীর ভাইয়ের ছেলে সে। নাম সিয়াম। উচা লম্বা, দেখতে শুনতেও খারাপ না। আম্মু খেতে বসে আমাকে বললেন, ভালো কোনো মেয়ের খোজ থাকলে আমি যেন তাকে জানাই৷ আমার ভার্সিটির কেউ আছে কিনা, অথবা বন্ধুদের বোন। আমি অনেকক্ষণ চিন্তাভাবনা করার পর মনে মনে যে মেয়েটাকে ঠিক করলাম, সে একদম পারফেক্ট। অন্তত একজন বিসিএস ক্যাডার পাত্রের জন্য তো অবশ্যই৷ পড়ছে একটা নামকরা পাবলিক ভার্সিটিতে, অসম্ভব সুন্দরী। লম্বায় ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি। মেয়ের বাবা শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের বড় কর্মকর্তা হিসাবে রিটায়ার্ড করেছেন বছরখানেক হলো। এক ভাই ডাক্তার, আরেক ভাই সুপ্রিম কোর্টের উকিল। মেয়ের নাম বিন্তি। এটা ডাকনাম, ভালো নাম ফারহিন নাহার৷ মেয়ের বাসা থেকে আপাতত বিয়ের ব্যাপারে কোনো কথাবার্তা হচ্ছে না, কিন্তু আমি শিওর বিসিএস ক্যাডার পাত্র হলে তারা অবশ্যই রাজি হবে। আগের জামানায় রাজকুমারদের যেমন কোনো বাবা মেয়ে দিতে অরাজি হতো না, তেমনি এই জামানার রাজকুমার হলো বিসিএস ক্য...